প্রচ্ছদ মিউচ্যুয়াল ফান্ড

মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ ব্যাংকের সুদের চেয়েও অনেক কম হয়

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও মানুষ মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখে ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়ার জন্য। অথচ বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ ব্যাংকের চেয়েও কম। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ব্যাংকের চেয়ে কম মুনাফা পেলে মানুষ অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডে কেন বিনিয়োগ করবেন। এ কথারই প্রভাব দেখা যাচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দামে। বর্তমানে বাজারে ৭১ শতাংশ ইউনিটের দাম গায়ের দরের চেয়েও কম।

 

প্রসঙ্গত, উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটের বিপরীতে অর্থ নিয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি যে ফান্ড তৈরি করে তাকে মিউচুয়াল ফান্ড বলে। এ অর্থের বেশিরভাগই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়। এ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি তার খরচ বাদ দিয়ে উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করে দেয়।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বর্তমান ডিভিডেন্ড ইল্ড (প্রকৃত লভ্যাংশ) গড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ব্যাংক আমানতের গড় সুদ হার ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মানে হলো—১০০ টাকা ব্যাংকে রাখলে বছরশেষে ১০৪ টাকা ৯৩ পয়সা পাওয়া যায়। আর মিউচুয়াল ফান্ড খাতে রাখলে পাওয়া যায় ১০৩ টাকা ৭০ পয়সা। তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৫টি ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ ব্যাংক আমানতের সুদ হারের চেয়ে কম। এর মধ্যে ১৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ শূন্য। আলাপ করে জানা গেছে, এ ফান্ডগুলোর ব্যবস্থাপকরা মূলত নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে রি-ইনভেস্টমেন্ট অন ইউনিট বা লভ্যাংশ হিসেবে ইউনিট দেওয়ায় তাদের প্রকৃত লভ্যাংশ শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এদিকে এ ফান্ডগুলোর ইউনিটের দাম ফেসভ্যালুর (গায়ের দর) চেয়ে কম। তাই বিনিয়োগকারীরা ইউনিট পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাছাড়া বছরের পর বছর ধরে নগদ লভ্যাংশ না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারছেন না।

 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব ফান্ডের অবস্থা এক রকম নয়। ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ ৯ শতাংশেরও বেশি। অর্থাত্ এ ফান্ডগুলোতে টাকা রাখলে ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাওয়া যাবে। একটি ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশের হার ১৬ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। এ ফান্ডগুলো ভালো করলেও জানার অভাবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এ খাতের দিকে কম।
যেসব ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ শূন্য সেগুলো হলো— রেইস ম্যানেজমেন্টের পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড। স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের এসএমইএল আইবিবিএল শরীয়াহ ফান্ড এবং ভ্যানগার্ড এসেট ম্যানেজমেন্টের ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালি ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড। এর বাইরে একটি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত লভ্যাংশ শূন্য। এ ফান্ডটি চলতি বছরেই তালিকাভুক্ত হয়েছে। এখনও মুনাফা ঘোষণা করেনি।

Advertisement

Advertisement

Facebook Page

SuperWebTricks Loading...